আশরাফুল ইসলাম
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধি,
অবশেষে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের উত্তরবাহাদুরপাড়া গ্রামের আলোচিত গ্রামীন সড়ক পাকাকরন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উম্মোচন করেন।
উত্তরসাহাপুর গ্রামের সড়কটি পাকাকরনের দাবীতে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই স্থানীয়রা ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। পরে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ সড়কটি পরিদর্শনে এসে পাকাকরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
পরে সড়ক পাকাকরনের কথাবলে “ মশিন্দাবাহাদুরপাড়া নদীর উত্তারপাড় সমাজকল্যান সংগঠনের” মাধ্যমে প্রায় ১০০ পরিবারের কাছ থেকে ৩০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পযন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। গ্রামবাসীর দাবী কমপক্ষে দুই লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয়েছিল।
গ্রামীন সড়কটি পাকাকরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন উপজেলা ওলামাদলের সাধারন সম্পাদক এবং মশিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। সড়ক পাকারকন প্রকল্পের তদবির ও সংশ্লিষ্ট খরচের কথাবলে এ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এনিয়ে বেশকিছু পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্টে “সরকারি রাস্তা পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামবাসীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ” শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এনিয়ে সবত্র আলোচনার ঝড় উঠলেও সাংগঠনিকভাবে ওই নেতার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপরন্ত মঙ্গলবার সড়কটি পাকাকরন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচিত ওলামা দলের ওই সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে দেখাগেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্ত (এলজিইডি) গুরুদাসপুর অফিস সুত্রে জানাগেছে,মঙ্গলবার “মশিন্দা শিকারপাড়া সিনিয়র মাদরাসা- খুবজীপুর ভায়া সাহাপুর চরপিপলা রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং আনন্দনগর-সাহাপুর পর্যণ্ত ১দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার দীঘ দুইটি গ্রামীন সড়ক পাকাকরন কাজের উদ্বোধন করা হয়। এজন্য ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসাস হাবিবুর আলম নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ ছাড়াও উপজেলা নিবাহী কমকতা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুর রশীদ, মশিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী সাংসদপুত্র মাহমুদুল হক মোহাগ ও ঠিকাদার হাবিবুর আলমসহ নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, উপজেলায় ৪০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো পাকাকরন করা হবে। তবে উন্নয়ন কাজ শতভাগ বাস্তবায়নের চাঁদাবাজি বন্ধ রাখতে স্থানীয়দের অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন, গ্রামের একটি সড়ক পাকাকরনের নামে একটি চক্র চাঁদাবাজির সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল। তাঁদের সতর্ক করে বলেন, গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একাজ বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব গ্রামের মানুষের। ভালোকাজ হলে সড়কটি টেকসই হবে। আর ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা নিলে সড়কের কাজ শতভাগ ভালো হবেনা। দুর্ভোগ গ্রামের মানুষকেই পোহাতে হবে।