বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া দক্ষিণ মালিপাড়া এলাকায় লিজা খাতুন (১৪) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিজা খাতুনের বাবার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। তিনি স্বামী হাসান মুন্সীর সঙ্গে বনপাড়া দক্ষিণ মালিপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। হাসান মুন্সী কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, লিজা খাতুন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার গর্ভে ছেলে সন্তান ছিল। ঘটনার আগের দিনও তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আনন্দে স্থানীয়দের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছিল বলেও স্বজনরা জানান।
হাসান মুন্সীর বাবা রহমান মুন্সী বলেন, বাজারে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিকভাবে মনোমালিন্য হয়েছিল। লিজা বাজারে যাওয়ার কথা বললেও তাকে সঙ্গে নেওয়া হয়নি। এরপরই ঘটনাটি ঘটে বলে তিনি জানান।
রহমান মুন্সী আরও বলেন, ঘটনার আগে লিজা বাড়িতে রান্নার কাজ করছিলেন। পরে তাকে ঘরের ভেতর পাওয়া যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা গেছে, লিজা খাতুন হাসান মুন্সীর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। এর আগে হাসান মুন্সীর আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল এবং আগের দুই স্ত্রী বর্তমানে তার সঙ্গে সংসারে নেই। এ বিষয়ে রহমান মুন্সীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের দুই সংসারে সন্তান না হওয়ায় সেগুলো ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তার সঙ্গে এসএসআই আফাজুলও ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।
এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। তবে লিজা খাতুনের মা কুড়িগ্রাম থেকে বড়াইগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি বর্তমানে গাড়িতে করে পথে রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কোনো পারিবারিক বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।