নিজস্ব প্রতিবেদক,
শেরপুর:শেরপুরে নারী নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোঃ মহসিনের (৩৬) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মহসিন শেরপুর সদর থানার যোগীনীমুড়া নামাপাড়া গ্রামের মোঃ আজাহার আলীর ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহসিন এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫টি বিয়ে করেছেন এবং নারীদের ফাঁদে ফেলে নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা।অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মহসিন শেরপুরের শ্রীবরদী থানার ভায়াডাঙা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মোঃ মোজাহিদ আলমের মেয়ে তাছলিমা আক্তার মিশুকে (২৯) ফুসলিয়ে অপহরণ করে ঢাকা নিয়ে যান। সেখানে এক ভুয়া কাজী সাজিয়ে, নীল রঙের কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেন। এরপর তারা ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন।সংসার চলাকালীন মহসিন বিভিন্ন অজুহাতে কৌশলে মিশুর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে সংসারে অভাব দেখা দিলে মিশু একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। মাদকাসক্ত মহসিন মিশুর বেতনের টাকা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার কাছে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মিশু যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। একপর্যায়ে মিশুকে মারধর করে বাসা থেকে পালিয়ে যান মহসিন।নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তাছলিমা আক্তার মিশু বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামি মহসিন আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং মিশুকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে মিশুর ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল টিকটক ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মিশু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী কেলেঙ্কারি ও নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত এই মহসিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে। বর্তমানে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক রয়েছেন।