(নাটোর) প্রতিনিধি,
নাটোরের বড়াইগ্রামে পুত্রবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামীর নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার জলন্দা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত ওই গৃহবধূর নাম রওশন আরা (৪২)। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর আত্মসমর্পণকারী অভিযুক্ত স্বামীর নাম নুরুল ইসলাম (৫৫)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমেদ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাসেলের চাকরি চলে গেলে পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই পারিবারিক বিরোধের জেরে আজ সকালে ছেলের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুর নুরুল ইসলামের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুত্রবধূকে কোপাতে যান। এ সময় পুত্রবধূকে রক্ষা করতে শাশুড়ি রওশন আরা বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নুরুল ইসলাম। তিনি পুত্রবধূর পরিবর্তে নিজের স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।রওশন আরা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে নুরুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে প্রতিবেশীরা আহত রওশন আরাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।আহত গৃহবধূর ভাই জরিফ উদ্দিন বলেন, "পারিবারিক বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে কোপানো হয়েছে। নুরুল ইসলাম প্রথমে তাঁর পুত্রবধূকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। আমার বোন বাধা দেওয়ায় তাঁর ওপর এই নৃশংসতা চালানো হয়। বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর কাটার জখম রয়েছে।"বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আহত নারীর ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।