স্টাফ রিপোর্টার:
একই সাথে দুটি গুরুতর বিতর্কে জড়িয়ে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপে পড়েছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। একদিকে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তাঁর বড় ছেলেকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ও এমপির পুত্রের রিমান্ড:
দলীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ২৬ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত মিন্টুর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
ছেলের গ্রেফতারের বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ দাবি করেছেন, নিহত শাকিল তাঁরই কর্মী ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসাতে তাঁর ছেলেকে এই মামলায় জড়িয়েছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মী ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।
আপত্তিকর ভিডিও ও প্রযুক্তির অজুহাত:
পুত্র রিমান্ডে যাওয়ার পরদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের একটি কথিত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সর্বস্তরে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ অবশ্য ভিডিওটির সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষ গ্রুপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা 'ডিপফেক' প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছে। তবে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ তাঁর এই দাবিকে কেবলই আত্মরক্ষার অজুহাত হিসেবে দেখছেন।
দলীয় কঠোর অবস্থান ও বহিষ্কারের দাবি:
এই জোড়া কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর নাটোর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাংশ অবিলম্বে আব্দুল আজিজের পদত্যাগ ও দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও এমপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে নাটোর জেলা বিএনপি একটি জরুরি ও বিশেষ সভা আহ্বান করেছে। দলীয় নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সামান্যতম সত্যতা পাওয়া গেলে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।