বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

যৌন হয়রানির প্রতিশোধে পরিকল্পিত জোড়া খুন ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যার রহস্য উদঘাটন, চাচা গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক / ৪৫ বার
আপডেট টাইমঃ রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

 

 

উপজেলা  (পাবনা): প্রতিনিধি

 

ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার আলোচিত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরী জামিলা আক্তারের চাচা।

ডিবি পুলিশের দাবি, পূর্বে যৌন হয়রানির চেষ্টায় বাধা ও অপমানের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেপ্তার শরীফ ও নিহতরা উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা জীবিকার তাগিদে প্রায়ই ঢাকায় অবস্থান করতেন। ফলে জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুন (৬৫)-এর সঙ্গে গ্রামেই বসবাস করতেন। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে জামিলাদের বাড়িতে যান। এ সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকায় তিনি কিশোরীর সঙ্গে অসদাচরণের চেষ্টা করেন। এতে জামিলা প্রতিবাদ জানালে শরীফ অপমানিত হয়ে সেখান থেকে চলে যান।

এর কয়েকদিন পর, ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শরীফ পুনরায় ওই বাড়িতে যান। তিনি পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেও সুফিয়া খাতুন বিষয়টি মেনে নেননি এবং চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে শরীফ ঘরের পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে জামিলা চিৎকার করলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তার শরীফ। পরদিন সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন শরীফুল ইসলামকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

দাদি-নাতনির এ মর্মান্তিক জোড়া হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট