(নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার খাকসা–বাগডোব সড়কের নির্মাণকাজ ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই সড়কের কাজে মানসম্মত খোয়া ব্যবহার না করে খোয়ার নামে পোড়া মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী অনেক স্থানে পুরোনো মাটি ও উপকরণ অপসারণ করে নতুনভাবে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা না করেই পুরোনো স্তরের ওপর দিয়েই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ বড়াইগ্রাম থানা প্রকৌশলীর কাছে জমা দিয়েছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এত অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও কেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের টনক নড়ছে না।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সোহেল, মোজাম্মেল হক বাটুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, “রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই খোয়ার নামে পোড়া মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বারবার অভিযোগ দিয়েছি, এমনকি গণস্বাক্ষর দিয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর সঙ্গে কথা বললে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা সবাইকে নিয়েই চলতে চাই। সবাই যদি একসঙ্গে থাকি, তাহলে সবকিছু সহজ হয়। অনেক সাংবাদিক আসেন, আমরা তাদের সম্মান করি। আপনারা আমাদের বন্ধু, আমরাও আপনাদের বন্ধু। সবাই মিলে থাকলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানা প্রকৌশলী সুলতান এর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চ্যালেন এস টিভির বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নাটোর জেলা শাখার সদস্য সচিব সাংবাদিক মোঃ সাহাবুল আলম বলেন,
“যদি সবাই মিলে ‘এক হয়ে যাওয়ার’ কথা বলা হয়, তাহলে অনিয়মের অভিযোগগুলো কি তবে আড়ালেই থেকে যাবে—এমন প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় জনগণের মনে সন্দেহ থেকেই যায় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম বন্ধ করা হোক এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের কারণে ভবিষ্যতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।