স্টাফ রিপোর্টার, বড়াইগ্রাম (নাটোর):
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ৩ নং জোনাইল ইউনিয়নের চৌমুহন গ্রামে কথিত “কবিরাজি চিকিৎসা” এখন ভয়ংকর প্রতারণা শিল্পে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—সংঘবদ্ধ একটি চক্র ইউটিউবকে হাতিয়ার বানিয়ে মানুষের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, আর প্রতিবাদ করলেই দেওয়া হচ্ছে ভয়াবহ হুমকি।
ভুক্তভোগী মোঃ মুক্তার হোসেন (৪৫), পিতা মৃত আজিজ প্রামাণিক, গ্রাম- তালশো, থানা- বড়াইগ্রাম, জেলা- নাটোর। তিনি বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চৌমুহন গ্রামের কথিত কবিরাজ মোঃ সোহান হোসেন (৩০), মোঃ সোহাগ (৩০) (পিতা- জিয়াউর রহমান জিয়া) এবং মোঃ সাব্বির আহমেদ (৩০) (পিতা- ফরহাদ হোসেন) সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণার এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে।
তারা ইউটিউবে ভুয়া “অলৌকিক চিকিৎসা”, ভয়ংকর দৃশ্য ও নাটকীয় ভিডিও প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিশেষ করে যারা জীবনের কঠিন সমস্যায় পড়ে আশার খোঁজে থাকেন—তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে,
“রোগ সারানো ও সমস্যা দূর করার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করে। পরে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ ও নানা অজুহাতে ধাপে ধাপে টাকা নেয়।”
গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২,০৪,০০০ (দুই লাখ চার হাজার) টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো একক ঘটনা নয়—
৩ নং জোনাইল ইউনিয়ন এই চক্রের একাধিক ভুক্তভোগী রয়েছে, যারা ভয় ও হুমকির কারণে মুখ খুলতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রামবাসীর ভাষ্য আরও বিস্ফোরক—
“এরা আগে কিছুই ছিল না, এখন হঠাৎ করে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিক। এই টাকার উৎস কী—তা কি কেউ দেখছে না?”
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চক্রের কিছু সদস্য ইউটিউবে মানবিকতার মুখোশ পরে ভিডিও তৈরি করে নিজেদের ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরছে, অথচ বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের পাহাড় জমছে।
সাংবাদিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন,
এই চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা প্রতিবেদন করতে গেলে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে চাপ ও হুমকি আসে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
চৌমুহন গ্রামে একাধিক ভুয়া কবিরাজ গড়ে উঠেছে, যাদের কোনো দৃশ্যমান বৈধ আয় নেই—প্রতারণাই তাদের প্রধান আয়ের উৎস বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এখন আর নীরব থাকার সময় নেই—
এই প্রতারণার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে আরও অসংখ্য মানুষ নিঃস্ব হবে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি—অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।