নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ‘জিন-কবিরাজ’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে কিছু ব্যক্তি হঠাৎ করে কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বড়াইগ্রাম উপজেলার ৩ নং জোনাইল ইউনিয়নের চৌমহন গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সোহান হোসেন, মোঃ সোহাগ এবং মোঃ সাব্বির আহম্মেদ সাবু একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা রাতের বেলায় ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভূত-জিন, কবিরাজি ও অলৌকিক শক্তির ভিডিও প্রচার করে মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগান। বড়াইগ্রাম উপজেলার ৩ নং জোনাইল ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে তাদের একাধিক ইউটিউব চ্যানেল পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি এই চক্রের ফাঁদে পড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়েছেন এবং আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
গোপন তথ্যসূত্রে জানা যায়, এই চক্রের কার্যক্রম দেশ-বিদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং তারা ইতোমধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, কোথাও এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ পেলে তা ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, অভিযুক্তদের একজন মোঃ সাব্বির আহম্মেদ সাবু চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং প্রবাসীদের এই ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।