বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

বড়াইগ্রামে স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম, বাবার বিরুদ্ধে মামলা করবেন ছেলে।
অনলাইন ডেস্ক / ৩৩ বার
আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

 

 

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: 

 

নাটোরের বড়াইগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী মোছা. ফেরদৌসী বেগমকে (প্রায় ৪০) হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মো. রশিদের (প্রায় ৭০) বিরুদ্ধে। আহত ফেরদৌসী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছেন তাদের ছেলে ফিরোজ।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার ৫ নম্বর মাজগাঁও ইউনিয়নের গুরুমশীল বিলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে রশিদের সঙ্গে তার ছেলে ফিরোজের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন সকালে ফেরদৌসী রান্নাঘরে বসে থাকা অবস্থায় রশিদ তাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার হাত, পিঠ ও পেটে জখম হয়।

 

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ফেরদৌসীকে প্রথমে বনপাড়া আমেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

ফেরদৌসীর ছেলের বউয়ের ভাষ্য, ফেরদৌসী ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। এ বিষয়টি নিয়েও রশিদের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ চলছিল। ঘটনার আগের রাতে জমি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন সকালে শাশুড়ি রান্নাঘরে বসে থাকা অবস্থায় রশিদ তাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে, স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন রশিদ। তার দাবি, ঘটনার আগের দিন তার ছেলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য টাকা চাইলেও কেউ তাকে সহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

রশিদের ভাষ্য, তিনি তার স্ত্রীকে আলাদা করে রান্না করতে বলেছিলেন। স্ত্রী তা না করায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি পাট কাটার হাসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে দেন বলে স্বীকার করেন।

 

সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনার স্ত্রী যদি মারা যান, তাহলে কী হবে?” জবাবে রশিদ বলেন, “মারা গেলে যাবে।”

 

স্ত্রীকে কেন কুপিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তার জন্যই এগুলো হয়েছে।”

 

এদিকে আহত ফেরদৌসীর ছেলে ফিরোজের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বাবার বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি আমার মাকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছি।”

 

মায়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে ফিরোজ বলেন, “আমার মায়ের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। ডাক্তার চার ব্যাগ রক্ত দেওয়ার কথা বলেছেন।”

 

এ ঘটনায় এখনো বড়াইগ্রাম থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিক বলেন, “আমাদের কাছে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আহত নারীর চিকিৎসা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট