বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

চাকরি নয়, উদ্যোক্তা—ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারির পুরস্কার পেলেন গোলাম সাকলায়েন
অনলাইন ডেস্ক / ৩৬ বার
আপডেট টাইমঃ রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

 

 

রবিউল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরোঃ

একসময় চাকরির প্রত্যাশায় ছুটেছিলেন তিনি। কিন্তু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শই বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ। সেই গোলাম সাকলায়েন আজ উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি। জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর হাত থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এস এস মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী গোলাম সাকলায়েন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে গোলাম সাকলায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “একটা সময় গোলাম সাকলায়েন আমার কাছে বিদ্যালয়ে চাকরির জন্য এসেছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে।”

মন্ত্রী বলেন, “আজ গর্বের সঙ্গে বলতে হয়, উত্তরবঙ্গের মৎস্য চাষে যার বিশেষ অবদান রয়েছে, তিনি হলেন গোলাম সাকলায়েন।”

ভূমিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আলোচনায় আসে গোলাম সাকলায়েনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প। চাকরির পরিবর্তে মৎস্য চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও উদ্যোগে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, এ পুরস্কার তারই স্বীকৃতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর মাছ বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, রাজশাহীর তাজা মাছ কার্গো বিমানে করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য রাজশাহী বিমানবন্দর আরও সম্প্রসারণ করে মাছ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, যত দিন যাবে রাজশাহী তত এগিয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য খাতে সবদিক দিয়ে এগিয়ে যাবে। বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানেও রয়েছে। আগামী দিনে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে পৃথিবীতে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা হবে মিষ্টি পানিকে ঘিরে। পেট্রোলের চেয়েও মিষ্টি পানির মূল্য অনেক বেশি হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নদীর পানি নিয়ে বিরোধ ও যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের রয়েছে মিষ্টি পানির বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, রাজশাহীর আশপাশের খাল-বিলগুলোকে মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা হবে। চাষিরা সেখানে মাছ উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন। একই সঙ্গে রাজশাহীর মৎস্যচাষিদের দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী কালেক্টরেট পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী। পরে নগরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। “রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, রাজশাহীর উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি হিসেবে গোলাম সাকলায়েনের এ অর্জন রাজশিয়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার এ সাফল্য চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রত্যাশী তরুণদের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট