নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাময় শিল্প রাইস ব্র্যান অয়েল (ধানের কুঁড়ার তেল) খাত বর্তমানে নানা সংকটের মুখোমুখি। শিল্প সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরকারি সরবরাহ কার্যক্রম এবং সংগঠন পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে থেকে আজ পর্যন্ত সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে দেশের অনেক উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতার সুযোগ হারাচ্ছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং সরকারি তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট/পিটিশন দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি রয়েছে বলেও তারা দাবি করছেন।
অ্যাসোসিয়েশন নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ রাইস ব্র্যান অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক নেতার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন
মো. শাহজাহান আলী
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, তামিম গ্রুপ
সভাপতি, বাংলাদেশ রাইস ব্র্যান অয়েল অ্যাসোসিয়েশন
শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে তিনি খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনের কমিটি পরিচালনা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন উদ্যোক্তা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১৮(৪) অনুযায়ী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।এই অভিযোগের বিষয়ে তাকে ফোন করলে তিনি জানান আমরা স্বচ্ছতা মেনেই কাজ করেছি ১৫০ টাকা যে রাইস ব্যান্ড অয়েল সেটার চাইতে আমাদের টা ভালো তাই এটার দাম ১৮১.৫০ পয়সা সংগঠনের নির্বাচনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
নাজির হোসেন প্রধান
চেয়ারম্যান, প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রাইস ব্র্যান অয়েল অ্যাসোসিয়েশন
তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কারখানা পরিচালনা, আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারি সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারীদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে তেল সরবরাহের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা যাচাই আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। নাজির হোসেন কে সাংবাদিক ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চিত্ত মজুমদার
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড
তার বিরুদ্ধে সীমান্ত বাণিজ্য, দ্বৈত নাগরিকত্ব/পাসপোর্ট ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার যাচাই প্রয়োজন। চিত্ত মজুমদারকে সাংবাদিক ফোন করলে তিনি সাংবাদিক শোনার পরেই ফোনটি কেটে দিয়ে আর কথা বলতে সম্মতি পোষণ করেন নাই।
আদিত্য মজুমদার
মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেড
মজুমদার পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বাজার সরবরাহ এবং সীমান্ত বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তা।
তাদের দাবি, সরকারি সুবিধা ও সরবরাহ কার্যক্রমে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
আদিত্য মজুমদারকে একাধিকবার সাংবাদিক ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, এফসিএমএ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়েস্টার্ন এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড
সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা
তার বিরুদ্ধে রপ্তানি নীতি ও শুল্ক কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, রাইস ব্র্যান অয়েল খাতের বিকাশে রপ্তানি নীতি পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।
শাহেদুল রহমানের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তবে এ বিষয়ে সাংবাদিক তাকে ফোন করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মো. শাহেদুল রহমান
চেয়ারম্যান, গ্রীন অয়েল অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিড/বিএইচএল গ্রুপ
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রাইস ব্র্যান অয়েল অ্যাসোসিয়েশন
শিল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।
সরকারি সরবরাহ কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
আদালত ও তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে
অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন;
সরকারি সরবরাহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন;
রাইস ব্র্যান অয়েল খাতে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে;
রপ্তানি নীতি ও শুল্ক কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন;
উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্ভরতার পরিবর্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।