আনোয়ার ইসলাম (নাটোর) জেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে চাঁদা না পেয়ে বিএনপি পরিবারের সন্তান ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মাসুদ রানাকে (৩৫) লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে জখম ও হত্যার চেষ্টা করেছে জোনাইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোঃ জিয়াউর রহমান। উপজেলার নামকরা জোনাইল বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত ও জঘন্য ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এক যুবলীগ নেতার এমন সন্ত্রাসী হামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এখন ফুঁসে উঠেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জোনাইল বাজারের একজন নামকরা ব্যবসায়ী। এলাকাবাসী ও এজাহারের বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত চাঁদাবাজ যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী মাসুদ রানার নিকট ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় গত ০৪/১০/২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ১২:৩০ ঘটিকায় যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মাসুদ রানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তজমাট জখম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় জিডি ও এজাহার দায়ের করেছে।
এদিকে আক্রান্ত পরিবারটি বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের স্পষ্ট প্রশ্ন—দেশে আওয়ামী লীগের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ যুবলীগ নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং কেন প্রশাসন তাকে এখনো গ্রেপ্তার করছে না? অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জোনাইল বাজারের ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষ জানমালের সুরক্ষায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।