নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের বড়াইগ্রামে নিখোঁজের ছয় দিন পর শফিকুল ইসলাম (৩৮) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর, ২০২৬) সকালে উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার কালিকাপুর আদর্শ গ্রামে নিহতের ঠিক পাশের বাড়ির একটি নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে এই যুবকের পচাগলা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শফিকুল ওই গ্রামের মৃত শহিদ আলীর ছেলে। এলাকাবাসীর ধারণা, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন শফিকুল ইসলাম। স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আজ সকালে তার পাশের বাড়ির মামুন হোসেনের একটি নির্মাণাধীন টয়লেটের ভেতর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে সেখানে গিয়ে যুবকের অর্ধগলিত লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে শফিকুলের এই রহস্যজনক মৃত্যুকে নৃশংস ও সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন তার মা। নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবেশী সোহেল নামের এক মাদক ব্যবসায়ী আমার সন্তানকে মেরে এখানে ফেলে রেখে গেছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগেই মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল আমার ছেলেকে মারধর করেছিল। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।”
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, লাশের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।