বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

দেবিদ্বারে শক্তি বনাম অভিজ্ঞতার মহাযুদ্ধ: ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে মুখোমুখি হাসনাত আবদুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী
অনলাইন ডেস্ক / ১১৮ বার
আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬

দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ও উচ্চ উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচন। এই ভোটকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক আলোড়ন ও ব্যাপক কৌতূহল। এবারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন নবাগত ও আলোচিত রাজনৈতিক মুখ হাসনাত আবদুল্লাহ এবং চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী।
দেবিদ্বারের রাজনীতিতে ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি চারবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সময়ে এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁর অনুসারীরা। অনেকের কাছে তিনি এখনো “দেবিদ্বারের জনদরদী নেতা” ও “অভিজ্ঞ অভিভাবক” হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, নবাগত হলেও হাসনাত আবদুল্লাহ সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান ও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণার মাধ্যমে দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানানোয় এবারের নির্বাচন নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি দেবিদ্বারের রাজনীতিতে পরিবর্তন ও নতুন ধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এ নির্বাচনে দেবিদ্বার উপজেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ভোটারদের কণ্ঠে উঠে আসছে নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের দাবি। এক ভোটারের ভাষায়—
“আমরা নিরাপদ দেবিদ্বার চাই, উন্নয়ন চাই, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী নেতৃত্ব চাই।”
এ প্রসঙ্গে সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটনের পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী মো. সেলিম রানা বলেন,
“নেতৃত্ব মানে শুধু পদ বা ক্ষমতা নয়। একজন নেতার কাজ, আচরণ ও দেশপ্রেমই জনগণের আস্থার মূল জায়গা। দেবিদ্বারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন নেতৃত্বের ওপর, যিনি মানুষের কষ্ট বোঝেন, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ান এবং এলাকার উন্নয়নে সৎ ও সাহসী ভূমিকা রাখেন।”
তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের মানুষ এখন আর মুখের কথায় বিশ্বাস করে না—তারা চায় কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত নেতৃত্ব। যে নেতা গরিবের পাশে দাঁড়াবেন, মানবাধিকারের পক্ষে থাকবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল একজন প্রার্থী বনাম আরেকজন প্রার্থীর লড়াই নয়; এটি মূলত অভিজ্ঞতা বনাম পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, অতীতের অর্জন বনাম ভবিষ্যতের স্বপ্নের দ্বন্দ্ব। এই দুই ধারার সংঘর্ষ থেকেই নির্ধারিত হবে দেবিদ্বার উপজেলার আগামী দিনের নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেবিদ্বার উপজেলা রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট