বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়ি আসনের রেডমার্ক কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
অনলাইন ডেস্ক / ৫৭ বার
আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 

 

আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

 

খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ (রেডমার্ক) ভোটকেন্দ্রগুলোতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।

বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আঃ মালেক মিন্টু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ির তরুণ সমাজ ও নতুন ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তবে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না—এ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় বিরাজ করছে।

 

তিনি জানান, খাগড়াছড়ি আসনের মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৬৮টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (রেডমার্ক)’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের তথ্যে উঠে আসা এই চিত্র ভোটারদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পাহাড়ের কিছু সশস্ত্র সংগঠন তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায়ের লক্ষ্যে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক এলাকায় প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের প্রচারণায় যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

 

বক্তব্যে আরও বলা হয়, অতীতের মতো এবারও কিছু সশস্ত্র সংগঠন অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্তবর্তী ঝুঁকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, প্রিসাইডিং অফিসার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ প্রয়োগ—সব মিলিয়ে কেন্দ্র দখলের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বাস্তবায়নের আশঙ্কা রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন, ভোটের অন্তত তিন দিন আগে দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান, কেন্দ্রভিত্তিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা, নিয়মিত মোবাইল টহল জোরদার, স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সম্পৃক্ত করে আস্থার পরিবেশ তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি।

 

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা উগ্রবাদী তৎপরতা পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নূর ইসলাম।

 

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত সচেতনতা, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট