মোঃ শান্ত শেখ টুঙ্গিপাড়া গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের আড়জুড়ি মৌজায় সরকারি খাস জমি থেকে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৪ নম্বর পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরুল শেখের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে মধুমতি নদীর তীরবর্তী সরকারি খাস জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাটি কাটার ফলে পাশের এলজিইডির কার্পেটিং সড়ক ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রামচন্দ্রপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়জুড়ি মৌজার নদীর পাশের সরকারি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
ঘটনাস্থলে থাকা ভেকু চালক হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, “আমার গাড়ি চুক্তি করে নিয়ে এসেছেন ইমরুল। আমরা রাস্তার পাশ থেকে যে মাটি কাটছি, পরে আবার ভরাট করে দেব।”
এলজিইডির সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তার কিছু ক্ষতি হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটার পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের কারণে সরকারি সড়কের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইমরুল শেখ বলেন, “হ্যাঁ, মাটি আমি কাটাচ্ছি। আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।”
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন শেখ বলেন, “ইমরুল পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। তার সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা অবিলম্বে সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত এলজিইডির সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।