শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

পদ্মার তীব্র ভাঙনে গোদাগাড়ী কুঠিপাড়ায় ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক বাঁধ নির্মাণের আকুল দাবি
অনলাইন ডেস্ক / ২৯ বার
আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

 

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল: গোদাগাড়ী রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র ভাঙনে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী কয়েকশ পরিবারের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে এবং তীব্র নদীর স্রোতে পাড়ে বড় বড় ধস নামে। ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া এবং ঘরে পানি ওঠার আশঙ্কায় পুরো কুঠিপাড়া এলাকার মানুষ সারারাত জেগে আতঙ্কে রাত পার করেন।

ভাঙনকবলিত এলাকার অধিবাসীদের অভিযোগ, টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকার কারণেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের এভাবে জীবন ও সম্পত্তি হারানোর ভয়ে থাকতে হয়। এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, প্রায় ১৯৯৬ সালের দিকে এখানে শেষবারের মতো বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়াত সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এই বাঁধ সংস্কার ও সংরক্ষণে কিছু কাজ করেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নদী তীরবর্তী মানুষের সুরক্ষায় কিংবা বাঁধ সংস্কারে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

ঘটনার পর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। এলাকাটির বিএনপি নেতা নূর আলম ইসলাম বলেন, গতকাল রাতের এই আকস্মিক ভাঙনে পুরো কুঠিপাড়ার সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ভূমিকা দেখতে পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা দ্রুততম সময়ে নদীর তীর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

কুঠিপাড়ার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। প্রতি বছর কেন তাদের নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে এমন প্রশ্ন তুলে তারা অনতিবিলম্বে পদ্মার তীর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট