বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ৩ জন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে। গত রাত আনুমানিক ১১:৩০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়াইগ্রাম থানার একটি বিশেষ দল উপজেলার নগর ইউনিয়নে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।আটককৃত মাদক কারবারিরা হলো— চর গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে বুলবুল (২৪), চৌমন উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে হাসিবুল হাসান রাজু (২৪) এবং চৌমন পূর্বপাড়া গ্রামের আবু তালেব মোল্লার ছেলে আজিজুল হক স্বপন (২৬)।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে বিষাক্ত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। গত রাতে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ তাদের ঘেরাও করে এবং তল্লাশি চালিয়ে ১১৫ (একশত পনেরো) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ তাদের আটক করে। একই সাথে মাদক বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।আটকের পর পুলিশের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ধৃত আসামিরা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেছে। তারা সরাসরি জানায় যে, চৌমন গ্রামের বাসিন্দা ও জোনাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাব্বাব হক সাবু-এর সরাসরি নেতৃত্ব ও ছত্রছায়ায় তারা এলাকায় এই মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও নেপথ্য গডফাদার মূলত এই ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাব্বাব হক সাবু।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মাদকের সাথে কোনো আপস নেই। আটককৃত যুবকেরা মূলত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাব্বাব হক সাবুর লোক। তার মদদেই এরা এলাকায় যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”ওসি আরও স্পষ্ট করে জানান, “এই মাদক চক্রের মূল হোতা এবং নেপথ্যে থাকা গডফাদার সাব্বাব হক সাবুকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সে যত বড় প্রভাবশালী বা পদপ্রার্থীই হোক না কেন, অপরাধী হিসেবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের মূল উৎপাটন করতে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”