বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

সার নিয়ে কৃষকের হাহাকারবানেশ্বরে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
অনলাইন ডেস্ক / ২২ বার
আপডেট টাইমঃ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

মোঃ মেহেদী হাসান, পুঠিয়া (রাজশাহী):

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে রাস্তায় নামলেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি এবং খুচরা বাজারের কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শতাধিক কৃষক। অবরোধের জেরে মহাসড়কের দুই পাশে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকেরা।সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজার এলাকায় কৃষকেরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁদের অভিযোগ, আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি মিলছে না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অথচ খুচরা বাজারে বেশি দাম দিলে সার মিলছে—এমন অভিযোগও তোলেন তাঁরা।পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে ঘুরেও ডিলারের কাছে সার পাননি। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দামে সার না মিললেও খুচরা দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে।আরেক কৃষক রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ানোর পরও ডিলারের পক্ষ থেকে সার শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সার না পেলে জমি রক্ষা করব কী ভাবে? সিন্ডিকেট করে কৃষকের পকেট কাটা হচ্ছে।’’বিক্ষোভকারীদের দাবি, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। দ্রুত সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সার ডিলার এবং রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওছমান আলী। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে ইউরিয়ার কোনও সংকট নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁর গুদামে ১ হাজার ৪০ বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে। পাশাপাশি ডিএপি দেড় টন, এমওপি প্রায় এক টন এবং টিএসপি ১ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন রয়েছে। তবে মাসের শেষ দিকে নন-ইউরিয়া সারের মজুত কিছুটা কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান কৃষকদের আশ্বাস দেন, অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।প্রশাসনের আশ্বাস ও পুলিশের অনুরোধে পরে কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর বানেশ্বর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে কর্মসূচি শেষ করেন তাঁরা। যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়। এদিকে অবরোধের পর বি.এ.ডি.সি ডিলার ইব্রাহিমের কাছ থেকে ১৫ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি পটাশ সরকারি দামে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বলে জানা গেছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী দাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জরুরি কাজের কথা জানিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, কৃষকদের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী দাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কথা বলতে চাননি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সারের সংকটের সমাধান না হলে আমনসহ চলতি মৌসুমের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাঁদের প্রশ্ন—গুদামে সার থাকলে বাজারে কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে না কেন?

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট