(বড়াইগ্রাম) নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ২নং বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে শ্রীরামপুর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরপাড় ভেঙে বসতবাড়ি ও আশপাশের জমি পুকুরের মধ্যে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুকুরপাড় দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুকুরপাড়ে বসবাসরত স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে শ্রীরামপুর এস উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ বিঘা আয়তনের পুকুরটি প্রতিবছর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে লিজ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, পুকুরটি লিজ দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরপাড় সংস্কার না করায় প্রতিবছরই পাড় ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের বসতবাড়ি ও স্থাপনা।
তাদের অভিযোগ, পুকুরপাড়ে বসবাসরত প্রায় ১০-১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল, টয়লেট ও রান্নাঘরের কিছু অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে পুকুরের মধ্যে চলে গেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, বিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনটিও পুকুরপাড়ের ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাড়ের ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের মধ্যে মোঃ চান্দু মোল্লা, মোছাঃ হাছনা হেনা, মোঃ দুলাল, মোঃ শান্তাহার, মোঃ আমিরুল মোল্লা, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জাফর, মোঃ তমাল ও মোঃ রেজাউলসহ কয়েকজন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পুকুরটি লিজ দেওয়া হবে। লিজের টাকা পাওয়ার পর সেই অর্থ দিয়ে পুকুরপাড় সংস্কারের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এমপির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর পুকুর লিজ দেওয়া হলেও গত ১০-১৫ বছরে পুকুরপাড়ের দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে ভাঙন দিন দিন বাড়ছে।
এ ঘটনায় পুকুরপাড় সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “এ বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, পুকুরটি লিজ দেওয়ার অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত পুকুরপাড় সংস্কার করা হোক। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ও বিদ্যালয়ের ভবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।