মোঃ রাজিব হোসেন চাটমোর পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় আদম আলী নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আদম আলী আটঘরিয়া উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের বাসিন্দা এবং আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আদম আলী একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে চণ্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে আহত হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে আটঘরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদম আলী একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। চণ্ডীপাশা এলাকায় দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত আদম আলী ‘তামা’ হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। তবে ওই মামলার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আদম আলীকে কারা এবং কী কারণে হত্যা করেছে—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পূর্ববিরোধ, মামলা সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আটঘরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।