বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

শ্রীপুরে ৮ বছরের শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক / ৭ বার
আপডেট টাইমঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্ববিরোধের জেরে ৮ বছরের এক শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির নানি মোছা. রাহিমা (৫৬) শ্রীপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে শিশুটিকে লোহার রড দিয়ে আঘাত, নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং ঘর থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোছা. রাহিমা, স্বামী আব্দুল শহীদ, সোনাব, কাওরাইদ ইউনিয়ন, শ্রীপুর, গাজীপুরের বাসিন্দা। তিনি এর আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ২৬(১২)/২০২৫ এবং সেটি বর্তমানে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

 

অভিযোগে বলা হয়, ওই মামলাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মোছা. হেমা আক্তার (৩১), আব্দুল মান্নান (৫০), নাজমুল (২৮) ও নাছিমা (৪৫) লোহার রড, লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে অভিযোগকারীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন।

 

অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা তাঁর থাকার ঘরে প্রবেশ করে চলমান মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে ও তাঁর নাতনী রিয়া খান (৮)-কে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে পাশে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত হেমা আক্তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। শিশুটি সরে যাওয়ায় আঘাতটি তার পায়ের গোড়ালিতে লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।

 

এ সময় ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযুক্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন এবং পরনের কাপড় টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ২ নম্বর অভিযুক্ত তাঁর আলমারিতে রাখা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান।

 

রাহিমার অভিযোগ, তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষে থাকা তাঁর নাতি হরযত আলী (১২) ও ইউসুফ আলী (১০) এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় তাঁরা শিশুটিকে পরবর্তীতে সুযোগ পেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীর আরও দাবি, এর আগেও অভিযুক্তরা তাঁর নাতনী রিয়া খানকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

 

চিকিৎসাধীন শিশু

 

ঘটনার পর রাহিমা তাঁর মেয়েকে ফোন করলে তিনি এসে আহত শিশু রিয়া খানকে একটি প্রাইভেটকারে করে পার্শ্ববর্তী আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি পুলিশ কেস হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করে।

 

পরে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শিশুটিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীর দাবি, আহত নাতনীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

 

এ বিষয়ে রাহিমা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর নাতনীসহ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

তবে অভিযোগে উল্লিখিত মারধর, হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি, হুমকি ও টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলোর সত্যতা তদন্তাধীন। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মাহাবুর আলম স্টাফ রিপোর্টার

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট