মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষক সংকট: ইসলাম ধর্ম পড়াচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক
অনলাইন ডেস্ক / ৩৭ বার
আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

মোঃ শান্ত শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি।

 

 

শিক্ষক সংকটের কারণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকায় হিন্দু শিক্ষকদেরই ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে ইসলাম ধর্মের আরবি, সূরা ও কালামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

 

বিদ্যালয় তিনটি হলো—৩২ নম্বর চর গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৫ নম্বর সোনাখালী তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৪৭ নম্বর সড়াইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকায় রুটিন অনুযায়ী হিন্দু শিক্ষকদের ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিতে হচ্ছে। তবে আরবি, সূরা ও কালামসহ ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় পড়ানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় তারা শুধু বাংলা অর্থ পড়িয়ে ক্লাস পরিচালনা করছেন।

 

এর মধ্যে ৪৫ নম্বর সোনাখালী তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষকই হিন্দু সম্প্রদায়ের। বিদ্যালয়টিতে মোট ৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ জন মুসলিম এবং ৩০ জন হিন্দু শিক্ষার্থী।

 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক কল্পনা বিশ্বাস।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিবানী লতা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো ইসলাম ধর্মের শিক্ষক নেই। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমাকে ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিতে হয়। ইসলাম ধর্মের আরবি ও আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলো আমি বুঝি না। তারপরও ক্লাস নিতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ভালো করার জন্য এখানে একজন ইসলাম ধর্মের শিক্ষক খুবই প্রয়োজন।”

 

প্রধান শিক্ষক মন্টু চন্দ্র বাইন বলেন, “মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিতে গিয়ে আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। আমরা এমএ বা বিএ পাস করলেও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা নেই। অনেক শিক্ষক ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিতে চান না। বাধ্য হয়ে তাদের এই ক্লাস নিতে হয়। এতে ক্লাসের রুটিন করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা চাই, এখানে একজন ইসলাম ধর্মের শিক্ষক দেওয়া হোক।”

 

এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নির্ধারিত বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক না থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে আরবি, সূরা ও কালাম শেখার ক্ষেত্রে তারা সমস্যায় পড়ছে। দ্রুত মুসলিম শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় কর্মকার বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। ইতিমধ্যে এসব বিদ্যালয়ের বিষয়ে অবগত হয়েছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এসব বিদ্যালয় গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় যেসব শিক্ষকের ওই বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সুবিধা হবে, তাদের সেখানে বদলি করা হবে। আশা করি, এ সপ্তাহের মধ্যে এ সংকটের নিরসন হবে।”

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট