মোঃ শান্ত শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি।
আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস। কী, হাসি পাচ্ছে? সত্যিই আজ বাঁশ দিবস। ভাবছেন, এ আবার কেমন দিবস? যদিও আমাদের দেশে ‘বাঁশ’ শব্দটি ভিন্ন অর্থেও ব্যবহৃত হয়। হঠাৎ কোনো বিপদে পড়লে বা ঠকতে হলে আমরা এই শব্দটি অন্যভাবেও প্রকাশ করি।
আজকের দিনে চাইলে আপনার প্রিয় বন্ধুকে বাঁশ অথবা বাঁশের তৈরি পণ্য উপহার দিতে পারেন। চাইলে কচি বাঁশের তরকারি রান্না করে খেতে পারেন। কিংবা বন্ধুরা মিলে চলে যেতে পারেন কোনো গহিন বাঁশঝাড়ে।
মূলত থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু কংগ্রেস (ডব্লিউবিসি) থেকে বিশ্ব বাঁশ দিবসের সূচনা হয়। ওই কংগ্রেস আয়োজনে দেশটির রয়্যাল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট সহায়তা করেছিল।
বিশ্বজুড়ে গবেষক, উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের প্রধান বৈশ্বিক সম্মেলন হলো ডব্লিউবিসি। ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বশাসিত অঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে ১৯৮৪ সালে বাঁশ কংগ্রেসের প্রথম আসর বসেছিল। জাপানের মিনামাতায় ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত ডব্লিউবিসির তৃতীয় আসরে ইন্টারন্যাশনাল ব্যাম্বু অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আসরে আইবিএকেওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউবিও) রূপান্তর করা হয়। পরের বছর, ২০০৫ সালে, ডব্লিউবিও আইনগতভাবে একটি সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে।বিশ্ব বাঁশ দিবস জাতিসংঘ ঘোষিত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। এটি বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে পালিত একটি বৈশ্বিক সচেতনতামূলক দিবস। বিভিন্ন দেশে বাঁশ রোপণ, কর্মশালা, প্রদর্শনী, গবেষণা ও স্থানীয় পর্যায়ের নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়।
বাঁশ দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘ব্যাম্বু বিয়ন্ড বর্ডারস’, যার বাংলা অর্থ ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো বাঁশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা, এর টেকসই ব্যবহার বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে বাঁশভিত্তিক পণ্যের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।