আশরাফুল ইসলাম
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধি
তিন কলেজপড়ুয়া মেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবার, তিন মাসের মধ্যে ঘর ছাড়ার নির্দেশ।
নিজস্ব কোনো জমি নেই। বাঁশের খুঁটি ও বনের বেড়া দিয়ে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ছাপরা ঘরেই স্ত্রী, তিন কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও এক স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে একযুগ ধরে বসবাস করছেন দিনমজুর আশরাফ আলী (৫৭)। অন্যের জায়গায় বসতঘর তুলে কোনোমতে সংসার চালিয়ে এলেও এবার সেই জায়গাও ছাড়তে বলা হয়েছে। ফলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন-এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লার এই পরিবারের।
আশরাফ আলী মৃত শুকুর মাহমুদের ছেলে। সাত সদস্যের পরিবারে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বাকি তিন মেয়ে কলেজে পড়ছেন। স্কুলপড়ুয়া একমাত্র ছেলেটিও সংসারের অভাবের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি চাঁচকৈড় বাজারের একটি দোকানে কাজ করে। আশরাফ আলী কখনো ইট ভাঙেন, কখনো রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন, আবার কখনো কৃষিশ্রমিকের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার।
স্থানীয়রা জানান, আশরাফ আলীর নিজস্ব কোনো জমি নেই। একই মহল্লার নওশের মোল্লার জায়গায় বাঁশের খুঁটি ও বনের বেড়া দিয়ে একটি ছাপরা ঘর বানিয়ে প্রায় ১২ বছর ধরে পরিবারটি বসবাস করছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি ও কাদা ঢুকে পড়ে। কখনো ঝড়ে উড়ে যায় টিনের চালও। একই ঘরে ছয়জনের বসবাস হওয়ায় তিন কলেজপড়ুয়া মেয়ের পড়াশোনারও উপযুক্ত পরিবেশ নেই।
এরই মধ্যে জায়গার মালিক সেখানে বাড়ি নির্মাণ করবেন জানিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘরটি সরিয়ে নিতে বলেছেন। এতে পরিবারটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। আশ্রয়ের কোনো বিকল্প না থাকায় সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আশরাফ আলী ও তাঁর স্ত্রী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আশরাফ আলী বলেন, “জায়গার মালিক বাড়ি করবেন, তাই দ্রুত জায়গা ছেড়ে দিতে বলেছেন। আমাদের নিজের কোনো জায়গা নেই। এতগুলো সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? তিন মেয়ে কলেজে পড়ে। সরকার যদি শুধু মাথা গোঁজার মতো একটু জায়গা ও একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে পারব।”
চাঁচকৈড় মহল্লার মো. সুমন হাসান (সোনার) ও স্বাধীন তালুকদার বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে একটি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার যেমন আশ্রয় পাবে, তেমনি তিন কলেজপড়ুয়া মেয়ের পড়াশোনার পরিবেশও তৈরি হবে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।”