মোঃ আনোয়ার (নাটোর) প্রতিনিধি:
বড়াইগ্রাম উপজেলা সদর থেকে জোনাইল বাজারে যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন আর সড়ক নেই, পরিণত হয়েছে এক মরণফাঁদে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল খানাখন্দ। একটু বৃষ্টি হলেই সেই গর্তগুলোতে পানি জমে তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট ডোবা। দেখে চেনার উপায় নেই এটি কোনো ব্যস্ত আঞ্চলিক সড়ক নাকি মাছ চাষের জলাশয়!
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইক ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বর্তমান যে করুণ দশা, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সড়কটিকে কোনোমতে চলাচলের উপযোগী করার নামে গর্তগুলোতে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে ভাঙা ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে, তা দুর্ভোগ কমানোর বদলে ঝুঁকি আরও শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইটের এই এলোমেলো টুকরোগুলোতে চাকা পিছলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে যাত্রীবাহী ভ্যান ও মোটরসাইকেল।
স্থানীয় ভ্যানচালক ও যাতায়াতকারী কয়েকজন চালকের সাথে কথা বললে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। প্রতিদিন কোনো না কোনো গাড়ি এখানে বিকল হচ্ছে, এক্সিডেন্ট হচ্ছে। আমরা পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে এই নরককুণ্ড দিয়ে যাতায়াত করছি। প্রশাসন কি কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছে?”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটির এই বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না। জোড়াতালির সাময়িক চেষ্টা দিয়ে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। এই অবহেলা আর কতদিন চলবে—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
জরুরি ভিত্তিতে এই সড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃনির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও সাধারণ যাত্রীদের একটাই জোরালো দাবি—অবিলম্বে এই ‘মরণফাঁদ’ সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষের এই কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে কি?