মোঃ আনোয়ার (নাটোর) প্রতিনিধি:
বয়স ৩৫ বছর হলেও আত্মসম্মান রক্ষায় নারী জনপ্রতিনিধির সাহসী পদক্ষেপ
স্বামীর চরম মাদকাসক্তি ও দীর্ঘদিনের সুনিপুণ পারিবারিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক নারী জনপ্রতিনিধি। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম গেদি মন (৩৫)। তিনি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ২ নং বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের বর্তমান মহিলা সদস্য (মেম্বার)। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, মাদকাসক্ত স্বামীর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি নিজেই তার স্বামীকে আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক (ডিভোর্স) দিয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই মেম্বার গেদি মনের স্বামী মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়শই স্ত্রীর ওপর চড়াও হতেন এবং অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামাজিক মর্যাদা, দায়িত্ব ও লোকলজ্জার কথা চিন্তা করে ৩৫ বছর বয়সী গেদি মন দীর্ঘদিন ধরে সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, মাদকের টাকার জন্য ঘরে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও অভিযুক্ত স্বামী তার মাদকাসক্তি ও অনৈতিক আচরণ পরিবর্তন করেননি। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় অবশেষে নিজের আত্মসম্মান ও জীবন রক্ষার্থে মেম্বার গেদি মন তার স্বামীকে তালাক দেওয়ার আইনি পদক্ষেপ নেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মহিলা মেম্বার গেদি মন জানান, “আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার মানুষের অধিকার ও সুরক্ষায় কাজ করি। কিন্তু আমার নিজের ঘরেই মাদকের কারণে শান্তি ছিল না। মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচার এখন আর সহ্য করার মতো পর্যায়ে নেই। বাধ্য হয়েই নিজের সম্মান ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমি তাকে তালাক দিয়েছি।”
এদিকে একজন জনপ্রিয় নারী জনপ্রতিনিধির জীবনে মাদকাসক্ত স্বামীর কারণে এমন বিচ্ছেদের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে মাদকের করাল গ্রাস থেকে সমাজ ও যুবসমাজকে মুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বড়াইগ্রামের স্থানীয় সচেতন মহল।