সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ: ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা  
অনলাইন ডেস্ক / ১১৪ বার
আপডেট টাইমঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের ঐতিহ্যবাহী নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই অনিয়ম রুখে দাঁড়াতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

অভিযোগে জানা যায়, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন শ্রেণীতে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।

৬ষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণীতে বোর্ড ফি যথাক্রমে ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ ও ৪০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

৯ম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন নির্ধারিত ফি ৯৮ টাকা হওয়া সত্ত্বেও তুলে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।

বার্ষিক ভোজ ও টিফিন বরাদ্দের নামেও বড় অঙ্কের অর্থ নয়ছয়ের প্রমাণ মিলেছে।

২০২৬ সালের বার্ষিক ভোজের জন্য ভুয়া ভাউচার বানিয়ে প্রায় ২লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়, অথচ ছাত্রীদের কাছ থেকে এই বাবদ সাড়ে ৫লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছিল।

টিফিন খাতে প্রতি মাসে দের লক্ষ্য টাকা হিসেবে বছরে ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেয়া হয় না।

মাত্র ৯.৫০ টাকা মূল্যের টিফিন কিনে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখানো হয়েছে। বিগত ঈদুল ফিতরের পর ১৩ দিন একটানা কোনো টিফিন না দিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ২,২১,৫৮৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়।

অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা ২০২৫-এর প্রায় ৬ লক্ষ টাকা এবং পরীক্ষা কমিটির নামে প্রায় ৭০ হাজার টাকার কোনো হিসেব মেলেনি।

এসএসসির কর্মচারীদের পাওনা ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ না করার পাশাপাশি ৬ষ্ঠ, ৮

ম ও ৯ম শ্রেণীর অতিরিক্ত আদায়কৃত ৬০ হাজার টাকার তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও ২ বছর পার হলেও তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি।

দরিদ্র কল্যাণ তহবিল থেকে গত ২ বছরে শিক্ষার্থীদের কোনো সাহায্য না করে বরং অসদাচরণ করা হয়েছে।

 

বিদ্যালয়ে আইসিটি ফান্ডে প্রায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আদায় হলেও এসব খাতে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। গত ৫ বছর ধরে ম্যাগাজিন প্রকাশনা বাবদ ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও কোনো ম্যাগাজিন ছাপা হয়নি। এছাড়া ল্যাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই, টয়লেট অপরিষ্কার এবং প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত ২টির জায়গায় কোনো ক্লাস নেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এসব আর্থিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট