বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদকর্মীদের হাতে খাবার ‎ পথচারীদের মুখে হাসি
অনলাইন ডেস্ক / ৭০ বার
আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

‎
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

‎

‎
‎রাজশাহীতে প্রতি বৃহস্পতিবার মানবিকতার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মডেল প্রেসক্লাবের

‎সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যা নামে। কেউ বাড়ি ফেরেন কেউ গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ায় ছুটে চলেন। আবার কারও দিন কাটে জীবিকার সন্ধানে পথে পথে। সেই ব্যস্ত পথেই প্রতি বৃহস্পতিবার একটুখানি ভালোবাসা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা। পথচারীদের হাতে খাবার তুলে দিয়ে তাঁরা যেন মনে করিয়ে দেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না প্রয়োজন হয় একটি আন্তরিক হৃদয়ের।
‎দীর্ঘ ২৩ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে পেরে নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমদাদুল হক। তাঁর কাছে এটি কেবল খাবার বিতরণ নয বরং সাংবাদিকতার বাইরেও মানুষের জন্য কিছু করার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা।
‎১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ইমদাদুল হক বলেন ২০০৩ সালে পাবনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পাবনার আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। এরপর বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি ও মানুষের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থেকেছেন তিনি।
‎পাবনায় সাংবাদিকতা শুরু করে ঢাকায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন পরে নিজের জন্মভূমি রাজশাহীতে ফিরে পেশাগত দায়িত্ব পালন এভাবেই কেটেছে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ সময়। দৈনিক সিনসা বাংলার দূত দৈনিক নবরাজ খোলা কাগজ অর্থনীতির কাগজ আজকের জীবন উপচার ও রাজশাহীর আলোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। দৈনিক রাজশাহীর আলোতে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০২০ সাল থেকে দৈনিক প্রভাতের রাজশাহী ব্যুরো এবং আওয়ার বাংলাদেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৫ সালে চ্যানেল এসের রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হন। পরের বছর তিনি আনন্দ টেলিভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
‎পেশাগত জীবনের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এতিমখানা মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
‎ইমদাদুল হকের কাছে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাব শুধু একটি সাংবাদিক সংগঠন নয় এটি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার জায়গা। তিনি বলেন রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাব আমার প্রাণের সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে যখন মানুষের হাতে খাবার তুলে দিতে পারি তখন সত্যিই গর্ব অনুভব করি। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগ আমাদের জন্য আনন্দের।
‎এ কাজ অব্যাহত রাখতে রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
‎সহমর্মিতার বন্ধনে সাংবাদিকেরা
‎রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোমিন ওয়াহিদ হিরোর কাছেও এই উদ্যোগের আনন্দ আলাদা। ২০০৭ সালে রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক সানশাইন পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বর্তমানে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
‎সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষের জন্য কিছু করতে পারাকে সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
‎মোমিন ওয়াহিদ হিরো বলেন রাজশাহীতে পথচারীদের হাতে খাবার তুলে দিতে পারছি এটি সত্যিই আল্লাহর এক নিয়ামত। আমাদের সংগঠনের সদস্যদের আন্তরিকতায় প্রতি বৃহস্পতিবার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা চাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কাজ অব্যাহত থাকুক।
‎তাঁর কথায় এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সংগঠনের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। একা হয়তো অনেক কিছু করা সম্ভব নয় কিন্তু সবাই মিলে এগিয়ে এলে ছোট উদ্যোগও মানুষের জীবনে আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
‎সংগঠনের কার্যক্রমে মানবিকতার ছাপ
‎২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাব বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির সদস্যদের দাবি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও তাঁরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
‎ঈদ উপলক্ষে সাংবাদিকদের উপহার বিতরণ সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়নে পশু জবাই করে সাংবাদিকদের মধ্যে মাংস বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পথচারীদের খাবার দেওয়ার উদ্যোগও পরিচালিত হচ্ছে।
‎প্রতি বৃহস্পতিবারের এই আয়োজন সদস্যদের কাছে এখন আনন্দ ও একসঙ্গে কাজ করার উপলক্ষ। খাবার হাতে পেয়ে কারও মুখে হাসি ফুটলে কারও কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা শোনা গেলে সেই মুহূর্তই তাঁদের পরিশ্রমের প্রাপ্তি হয়ে ওঠে।
‎সংগঠনের সদস্যদের ভাষ্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা কোনো প্রচার পাওয়ার প্রতিযোগিতা নয় বরং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের একটি ছোট্ট প্রয়াস।
‎প্রশংসা প্রবীণ সাংবাদিকদেরও
‎রাজশাহীর কয়েকজন প্রবীণ সাংবাদিক এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, সাংবাদিকেরা সাধারণত সমাজের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। সেই সাংবাদিকেরাই যখন নিজেদের উদ্যোগে মানুষের হাতে খাবার তুলে দেন তখন পেশাটির সামাজিক দায়বদ্ধতার আরেকটি দিক সামনে আসে।
‎তাঁদের ভাষ্য রাজশাহীতে সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতি সপ্তাহে পথচারীদের খাবার বিতরণের এমন উদ্যোগ তাঁদের নজরে খুব একটা আসেনি। তাই রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের এই কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।
‎দিন শেষে খাবারের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয় কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের প্রতি মানুষের মমতা। ব্যস্ত শহরের পথে দাঁড়িয়ে কারও হাতে খাবার তুলে দেওয়ার মধ্যেও থাকে এক ধরনের নীরব বার্তা এই শহরে কেউ কারও কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত নয় মানুষের প্রয়োজনে মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।
‎রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের এই উদ্যোগ কত দূর এগিয়ে যাবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রতি বৃহস্পতিবারের এই ছোট্ট আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেয় মানবিকতার প্রকাশ সব সময় বড় কোনো কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় কখনো কখনো একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট