মোঃ আশরাফুল ইসলাম গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (শাকিল) মারা গেছেন। হামলার শিকার হওয়ার ১২ দিন পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যেভাবে হামলার শিকার হন শাকিল
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি। এ সময় দুর্বৃত্তরা দুই রাউন্ড গুলিও ছোড়ে।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শাকিল পালানোর চেষ্টা করলে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শাকিলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা
চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা হাসপাতালে গিয়ে শাকিলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে তাঁরা খোঁজ রাখছিলেন।
মামলা দায়ের, আসামি শনাক্তের দাবি পুলিশের
এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, মামলার আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানান।
শাকিলের মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।