মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে বালু ব্যবসা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মানববন্ধন ঘিরে বিতর্ক
অনলাইন ডেস্ক / ২০ বার
আপডেট টাইমঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বালু ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর বালুমহালের কাছে একটি পক্ষের মানববন্ধনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

মানববন্ধনের আয়োজকদের দাবি, সাঁড়া এলাকায় বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ীদের দাবি, বৈধ ইজারার মাধ্যমে বালু কেনাবেচা করলেও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানববন্ধন করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌ-পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মানববন্ধনের আয়োজক সোহানুর রহমান বিপু ও জুয়েল রানা মৃধার বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজি এবং নদীর চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রিসংক্রান্ত মামলার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, বর্তমান আইনি অবস্থা ও তাঁদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রশাসনের তৎপরতায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের কারণে বৈধ ইজারাদারের কাছ থেকে বালু সংগ্রহ করতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানববন্ধন করেছেন। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

 

মানববন্ধনের আয়োজক জুয়েল রানা মৃধা ও সোহানুর রহমান বিপু অভিযোগ করেন, সাঁড়া এলাকায় হাসিবুর রহমান হাক্কে মণ্ডলের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এতে নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি নদীর পাড়ের প্রতিরক্ষা ব্লক ধসে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাঁরা মানববন্ধন করেছেন বলে জানান।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঁড়া ঘাটের বালু ব্যবসায়ী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হেকমতউল্লাহ মণ্ডল কনক। তিনি বলেন, পদ্মা নদী থেকে তিনি বালু উত্তোলন করেন না। রাজশাহীর লক্ষ্মীনগর মৌজার বৈধ ইজারাদার মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে বালু কিনে সাঁড়ায় বিক্রি করেন। তাঁর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।

 

সাঁড়া ঘাটের ইজারাদার ও সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজাদুর রহমান মেম্বার বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা নিয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী খাজনা আদায় করছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানববন্ধন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই।

 

ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুর রহমান সরকার বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বিব্রত। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ শোয়াইব হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বালু উত্তোলন ও ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইজারার বৈধতা, বালু উত্তোলনের স্থান এবং অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট