শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

বিশ্বাসের নামে প্রবাসীর ঘামঝরা কোটি টাকা লুট, বংশালে পরিবারকেন্দ্রিক প্রতারণায় তোলপাড়
অনলাইন ডেস্ক / ১১৬ বার
আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা প্রতিনিধি

ঢাকার বংশাল থানায় প্রবাসী সালাম খানের কষ্টার্জিত প্রায় এক কোটি বিশ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সংঘটিত এই প্রতারণার ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী সালাম খান (৩৩), পিতা-দুলাল খান, সাং-২৫/২, কেএম আজম লেন, বেগম বাজার, বংশাল, ঢাকা। তিনি বলেন,
“আমি প্রবাসে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি। প্রখর রোদে, মরুভূমির তাপে দিনের পর দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে টাকা পাঠিয়েছি শুধু মা–বাবার মুখে হাসি দেখব বলে। সেই কষ্টের টাকা আজ আমারই আপন বোন ও দুলাভাই আত্মসাৎ করেছে—এটা আমি কোনোদিন কল্পনাও করিনি।”
অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘ ১০ বছর সৌদি আরবে অবস্থান করে সালাম খান তার উপার্জিত ৯১ লাখ টাকা মায়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংক হিসাব নম্বর ১৩৯১০১০০৩২৭২০-এ পাঠান। এছাড়া নগদ ও বিকাশে ২০ লাখ টাকা এবং ব্যবসার প্রয়োজনে আরও ৯ লাখ টাকা আত্মীয়ের কাছে দেন। বৃদ্ধ পিতা-মাতার ব্যাংক হিসাব দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার মেজো বোন রেহানা আক্তার (৪০) ও তার স্বামী সাহেদ আলী (৪২)।
দেশে ফিরে নিজের জমানো টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে টালবাহানা শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষায়,
“আমি টাকা চাইলে তারা আমাকে শত্রু বানিয়ে ফেলে। নিজের টাকা চাইতে গিয়ে আজ আমি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। এটা শুধু প্রতারণা নয়, এটা আমার জীবনের সাথে নিষ্ঠুর খেলা।”
এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। সর্বশেষ গত ২৬ জুন ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্তরা তার বাসার নিচে এসে তাকে ও তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী।
তিনি আরও বলেন,
“তারা প্রকাশ্যে বলেছে—টাকা তো দিবেই না, বরং আমার বাড়ি দখল করে নেবে। একজন প্রবাসী হয়ে যদি নিজের জমানো টাকাই নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কার কাছে যাব?”
এ ঘটনায় বংশাল থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করেছে। ভুক্তভোগী দ্রুত তদন্ত, অর্থ উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
সালাম খান স্পষ্ট করে বলেন,
“আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—যেন আমার কষ্টের টাকাটা ফেরত পাই এবং যারা এই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। ন্যায়বিচার না পেলে একজন প্রবাসী হিসেবে আমি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ব।”

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট