লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ডাস্টার ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষিকা হাফিজা খাতুনের বিরুদ্ধে। এতে শিশুটির চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে এবং জিহ্বা কেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার চলছে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম মোঃ তাওহীদ (৭)। সে উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের সোহানুর রহমানের ছেলে এবং ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে কোনো এক পর্যায়ে শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন ডাস্টার ছুড়ে মারলে সেটি সরাসরি তাওহীদের মুখে গিয়ে আঘাত করে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার চোয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জিহ্বা কেটে রক্তাক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ধুপইল সার্জিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
বর্তমানে শিশুটির অপারেশন চলছে। শিশুকে অজ্ঞান করে অস্ত্রোপচার করাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বন্ডে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার, স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষিকা হাফিজা খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও ডাস্টার ছুড়ে শিক্ষার্থীদের আহত করার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একজন শিক্ষকের হাতে শ্রেণিকক্ষের ভেতর এমন নৃশংস আচরণে প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে। অভিভাবকরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষাঙ্গন হওয়া উচিত নিরাপদ ও স্নেহময়—সেখানে যদি শিশুরা শিক্ষকের হাতেই আহত হয়, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।