রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

ভাতা কার্ড ও পানি ট্যাংকির নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বর্নি ইউনিয়নের নারী সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
অনলাইন ডেস্ক / ৩৫ বার
আপডেট টাইমঃ রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে ভাতা কার্ড, শিশু কার্ড ও পানি ট্যাংকি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক জসিম মুন্সী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে ১০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রমে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ শুনতে পান। এ সময় ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন নারী ও পুরুষ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বিলকিস বেগম বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারগীস নামে এক নারী অভিযোগ করেন, শিশু কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্যদের কাছ থেকেও ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযুক্ত সদস্যকে ঘেরাও করে টাকা ফেরতের দাবি জানান। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয় এবং টাকা ফেরতের জন্য সাত দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, এর আগেও সাবেক মেম্বার হাবি শেখের কাছ থেকে পানি ট্যাংকি ও শিশু কার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের পর প্রায় ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত সদস্য নিজের মেয়ের নামে শিশু কার্ড এবং ভুয়া গর্ভবতী ভাতা কার্ড তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে জানানো হলে তদন্তের মাধ্যমে ওই নাম বাতিল করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়াও ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী জসিম মুন্সী।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নারী সদস্য বিলকিস বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট