স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ৪ নং বড়খাপন ইউনিয়নে অসহায় মানুষের চাল ও অর্থ বরাদ্দে নেতাদের দুর্নীতির খবর ফাঁস করায় তৃণমূলের দুই ত্যাগী নেতাকে “দলের কেউ নন” বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারির অভিযোগ উঠেছে। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ‘দৈনিক ঢাকা পত্র’ পত্রিকায় বড়খাপন ইউনিয়নে ৫ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম এবং কাল্পনিক গ্রামের নামে বরাদ্দ আত্মসাতের খবর প্রকাশের পর এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল।
জানা যায়, বড়খাপন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন আলম এবং উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিহাদ খান মিতুলের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বরাবর গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা, যার অন্যতম নেতৃত্ব দেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা মো. রোকন খন্দকার ও মো. শাহিদ মিয়া।
উক্ত অভিযোগের পর দুর্নীতিবাজ চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে সম্পূর্ণ অসাংগঠনিকভাবে গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে দাবি করা হয়, মো. রোকন খন্দকার ও মো. শাহিদ মিয়া বড়খাপন ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড বিএনপির কোনো স্তরের কর্মী বা প্রাথমিক সদস্য নন।
অথচ বড়খাপন ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের।বড়খাপন গ্রাম কমিটির অনুমোদিত মূল তালিকায় ৩৪ নং ক্রমিকে সম্মানিত সদস্য হিসেবে মো: রোকন খন্দকার এবং ৮৪ নং ক্রমিকে মো: শাহিদ মিয়া-এর নাম সুস্পষ্টভাবে রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দুর্নীতি ও পকেট রাজনীতির বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কোনো প্রকার কারণ দর্শানো (শো-কজ) ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। অসহায় মানুষের হক নিয়ে ছিনিমিনি খেলা দুর্নীতিবাজ নেতাদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে তৃণমূলের ক্ষোভ এখন চরমে।