আশরাফুল ইসলাম প্রতিনিধি (রংপুর):
আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইন পণ্যের জয়জয়কারে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা থেকে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। চড়া দামে মাটি কেনা, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির তুলনায় বাজারে পণ্যের ন্যায্য মূল্য না মেলায় কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের এই পেশা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা। সম্প্রতি উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের ইকরচালী বরাতী পালপাড়া গ্রামের এক কারিগরকে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ভ্যানে করে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাটির তৈরি তৈজসপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় মৃৎশিল্পী জীবন রায়, মহন্ত রায়, মানিক রায়সহ তরুণ-তরুণীরা জানান, একটি মাটির পাত্র তৈরির প্রক্রিয়া বেশ শ্রমসাধ্য। দূরবর্তী ফসলি জমি থেকে আঠালো এঁটেল মাটি সংগ্রহ ও কাদা প্রস্তুতের পর কাঠের গোল চাকার (ছাঁচ) সাহায্যে নিখুঁত শৈলীতে তৈরি হয় হাঁড়ি, পাতিল, কলস ও দইয়ের ভাঁড়। এরপর কাঁচা পাত্রগুলো কড়া রোদে শুকিয়ে বড় মাটির চুল্লিতে (পন) একটানা ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পুড়িয়ে টেকসই করা হয়। কঠোর পরিশ্রমের পর তৈরি এসব সামগ্রী স্থানীয় তারাগঞ্জ সদর হড়কলির হাট ও ইকরচালী হাটসহ বিভিন্ন গ্রামীণ মেলায় বিক্রি করা হয়। তবে প্লাস্টিক পণ্যের সস্তা ও সহজলভ্যতার কারণে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, “আমার উপজেলায় যে এখনও অত্যন্ত নিপুণভাবে এই মৃৎশিল্প উৎপাদিত হচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই লোকশিল্প আমাদের সংস্কৃতির অহংকার। কুমার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে এবং এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আন্তরিক চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।