বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

বড়াইগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব: গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটার পর শ্লীলতাহানি মামলায় মুয়াজ্জিন কারাগারে, প্রশ্নের মুখে সালিশকারীদের ভূমিকাও।
অনলাইন ডেস্ক / ৫২ বার
আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর:

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া এক মুয়াজ্জিনকে এবার শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত সেই সালিশ এবং ৪০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টি নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের ভান্ডারদহ গ্রামের মৃত আকবর আলী প্রামাণিকের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ভান্ডারদহ মধ্যপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি তিনি শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি তিনি পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাকে ৫০টি জুতার আঘাত এবং ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর শনিবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বড়াইগ্রাম থানায় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর শনিবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। রোববার আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত কারাগারে গেলেও গ্রাম্য সালিশে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ অর্থদণ্ডের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং সালিশে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকের প্রশ্ন, যদি কোনো ফৌজদারি অভিযোগকে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়ে গিয়ে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তবে সেই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হবে কি না।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সালিশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না এবং কেউ বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করেছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট