বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অংশীদারদের না জানিয়ে ৩ আমগাছ বিক্রির অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক / ১৯ বার
আপডেট টাইমঃ বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীত্তি ইউনিয়নের রানীবাড়ী চাঁদপুর গ্রামে ওয়াকফ স্টেট ও অংশীদারদের এজমালি সম্পত্তির তিনটি আমগাছ অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে নাসিমুল আলম নাসিম মিঞার বিরুদ্ধে। বিক্রি করা গাছগুলো কাঠাল বাগানের । গাছগুলো ৫৫ হাজার টাকায় কেনার কথা জানিয়েছেন ক্রেতা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাহী বক্স মন্ডল ওয়াকফ স্টেটের মোতাওয়াল্লি মো. বদরুল আলম বাচ্চু মিঞা ওয়াকফ স্টেট ও অংশীদারদের এজমালি সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর দাবি, অন্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা কিংবা অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে কাঠাল বাগানে আমগাছ কাটতে দেখা যায় হাবিবুর রহমানকে । হাবিবুর রহমান, উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের বাসিন্দা। জানতে চাইলে ক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, চার-পাঁচ দিন আগে আশরাফুল আলম বাইরোন মিঞার ছেলে নাসিম মিঞার কাছ থেকে কাঠাল বাগানের তিনটি আমগাছ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। তাই শ্রমিক নিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

অংশীদারদের একজন মৃত জগলুল আলম মিঞার স্ত্রী আনোয়ারা আলম ডালিম অভিযোগ করে বলেন, আমগাছ বিক্রির বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নাসিম মিঞা গাছগুলো বিক্রি করেছেন।

 

অন্য অংশীদার উম্মুল বানী বেগমের স্বামী মো. এহসানুল করিম বলেন, কাঠাল বাগানের গাছ বিক্রির বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, স্ত্রীর নামে শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়া জমি খারিজ করা থাকলেও নাসিমুল আলম জাল দলিল তৈরি করে তা দখলের চেষ্টা করছেন। গাছ বিক্রির টাকা তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল করিম বলেন, নাসিম মিঞার কাছে তাঁদের কোনো ব্যাংক হিসাবের তথ্য নেই। ফলে তাঁদের হিসাবে টাকা পাঠানোর দাবি তিনি কীভাবে করছেন, তা আমি ভেবে পাই না।

 

অংশীদার কর্না বেগমের ছেলে তাসনিমুজ্জামান (সেলিম) ও ঊষা বেগমের ছেলে আবু সাদাত মো. হোসেন অভিযোগ করেন, নাসিমুল আলম তাঁদের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে তাঁদের না জানিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করেন। তাঁরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, ওয়াকফ স্টেট ও অংশীদারদের এজমালি সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব মোতাওয়াল্লি বদরুল আলম বাচ্চু মিঞার ওপর ন্যস্ত থাকলেও তিনিও গাছ বিক্রির বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে এলাহী বক্স ওয়াকফ স্টেটের মোতাওয়াল্লি বদরুল আলম বাচ্চু মিঞা বলেন, “আমাদের এই স্টেট শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য ও প্রথা অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে। আমি বর্তমান মোতাওয়াল্লি হিসেবে ওয়াকফ স্টেট ও অংশীদারদের এজমালি সম্পত্তি দেখাশোনা করি। কিন্তু আমার ভাতিজা নাসিমুল আলম নাসিম মিঞা দীর্ঘদিনের প্রথা ও নিয়ম উপেক্ষা করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে এবং কোনো অনুমতি না নিয়ে তিনি এজমালি সম্পত্তির তিনটি আমগাছ বিক্রি করেছেন। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাসিমুল আলম নাসিম মিঞার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি নিয়েই আমগাছগুলো বিক্রি করেছেন। গাছ বিক্রির টাকাও সবার ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে অংশীদারদের হিসাবে টাকা পাঠানোর প্রমাণ চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ঘটনায় এজমালি সম্পত্তির গাছ বিক্রির অনুমতি ছিল কি না, বিক্রির অর্থ প্রকৃতপক্ষে অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট