নান্নু মিয়া:
আশুলিয়ায় শাহিন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একাধিক ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলো থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ও পরিবেশের ভারসাম্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শাহিন ও তার সহযোগীরা ভেকু দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মূল্যবান টপ সয়েল কেটে ট্রাকযোগে সরিয়ে নিচ্ছে। এসব মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন ভূমি ভরাট প্রকল্পে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“দিন-রাত ভেকুর বিকট শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। জমির মাটি কেটে নেওয়ার পর সেখানে আর চাষাবাদ সম্ভব নয়। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, যেসব জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যেই চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জমির স্বাভাবিক স্তর নষ্ট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষি জমি সুরক্ষা আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া ভেকু ব্যবহার করে মাটি কাটা সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতাভুক্ত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এত বড় পরিসরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মাটি কাটা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো অভিযান কিংবা দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড কি কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ ভেকু জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আশুলিয়ার কৃষি জমি ও পরিবেশ যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে—সে বিষয়ে তারা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।