বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

দেশনেত্রীর প্রস্থান, শোকের ছায়ায় বাংলাদেশ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই
অনলাইন ডেস্ক / ১৩৭ বার
আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক দীপ্ত অধ্যায় আজ নিভে গেল। বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরের শান্ত মুহূর্তে, সকাল ৬টায় ফজরের নামাজের পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইন্তেকালে জাতি হারাল এক সংগ্রামী নেতৃত্বকে, আর রাজনীতি হারাল এক সাহসী কণ্ঠস্বর।
বিএনপির মিডিয়া সেল ও দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত শোকবার্তায় তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, “আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।”
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেআপসহ ন। তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন—যা এর আগেই তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার ও মাতা তৈয়বা মজুমদার। শৈশব থেকেই ছিলেন মেধাবী ও দৃঢ়চেতা। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৬০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর ১৯৮১ সালে দেশের এক গভীর রাজনৈতিক সংকটকালে তিনি নেতৃত্বের হাল ধরেন। ১৯৮২ সালে বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে পদার্পণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক।
আশির দশকে সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হন। তবুও আপস করেননি—এই দৃঢ়তাই তাকে এনে দেয় ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা।
১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনামলে শিক্ষা খাতে আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন—বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচি তার উল্লেখযোগ্য অবদান।
২০০১ সালে আবারও জনগণের রায়ে ক্ষমতায় ফিরে আসেন তিনি। তার নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পায়। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় তাকে স্থান দেয়।
রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে তাকে নানা মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দী করা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি একে একে সব মামলায় খালাস পান।
আজ তার প্রয়াণে শোকাহত বিএনপি নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এক আপসহীন সংগ্রামী নারীকে—যিনি সাহস, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে থাকবেন ইতিহাসের পাতায়।
দেশনেত্রী, আপনি নেই—কিন্তু আপনার সংগ্রাম, আদর্শ ও স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের হৃদয়ে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট