নেত্রকোনা প্রতিনিধি ইমরান ফকির।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নাটকীয় অভিযানে বহুল আলোচিত ও কুখ্যাত মাদক কারবারি আব্দুল সাত্তার (৫২)-কে আটক করেছে পুলিশ। নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। প্রায় আধাঘণ্টার ধাওয়া শেষে কাদামাটি ও নদীপথ পেরিয়ে তাকে আটক করে কলমাকান্দা থানা পুলিশ।
গত ১৫ মে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের উলুকান্দা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল হাশেম। এ সময় এসআই মোঃ নূর আলম, এএসআই মোঃ সুমন মিয়াসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
আটক আব্দুল সাত্তার উলুকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে তিনি মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এলাকায় তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে আব্দুল সাত্তারকে হাতে বল্লম নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত তার গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আব্দুল সাত্তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরে ওসির নেতৃত্বে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির সামনের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এসআই নূর আলম ও এএসআই সুমন মিয়া তাকে ধাওয়া করেন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট নদীতে সাঁতার কেটে ও কাদামাটি অতিক্রম করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনায় পরিচালিত মাদকবিরোধী এ অভিযানে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় কলমাকান্দা থানা পুলিশকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সচেতন মহল।
সিডিএমএস সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল সাত্তারের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালের একটি মারামারি ও ভাঙচুরের মামলা এবং ২০২৬ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলাও রয়েছে।
স্থানীয় তদন্তে আরও জানা যায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করতেন তিনি। এতে স্থানীয় যুবসমাজ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আব্দুল সাত্তারকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।