বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

বনপাড়ার জাহেদা ক্লিনিকে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ: অস্ত্রোপচারে ড্রিলের ফলা রেখে সেলাই, আরেক রোগীর চিকিৎসায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়—প্রশাসন নীরব কেন?
অনলাইন ডেস্ক / ৪৭ বার
আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর:

 

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ার জাহেদা ক্লিনিক ও অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। চিকিৎসা অবহেলা, অস্ত্রোপচারে ত্রুটি এবং রোগীদের আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, ক্লিনিকটিকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

সর্বশেষ আলোচিত ঘটনায় গুরুদাসপুর উপজেলার আনোয়ারা বেগম (৫৫)-এর অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর পায়ের হাড়ের ভেতরে ড্রিল মেশিনের ভাঙা ফলা রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর এক্স-রেতে বিষয়টি ধরা পড়লেও তা অপসারণ করা হয়নি। পরে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করলে রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে জটিল অস্ত্রোপচার, সংক্রমিত অংশ অপসারণ ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ বিভিন্ন চিকিৎসায় প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এসেছে আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৫ হাজার টাকার চুক্তিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করা হলেও মাত্র ৪ দিনের মাথায় ইনফেকশন শুরু হয়। এরপর চিকিৎসা করাতে করাতে ২২ দিনের মধ্যেই প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। দীর্ঘ ৮ মাসে চিকিৎসা খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত রোগীকে সুস্থ করতে না পেরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক বছর পার হলেও রোগীর ইনফেকশন পুরোপুরি ভালো হয়নি, আর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিলের ফলা ভেঙে হাড়ের মধ্যে আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় অবহেলাই রোগীদের জটিল অবস্থার জন্য দায়ী।

একের পর এক এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মানুষের প্রশ্ন—এত অভিযোগ, এত ভুক্তভোগী, এত সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসন নীরব কেন? যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব কেন? আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষের দাবি—স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট