বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে বাগাতীপাড়ায় তীব্র উত্তেজনা ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিতের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক / ৪৮ বার
আপডেট টাইমঃ বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

 

নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের বাগাতীপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা, লাঞ্ছিত করা এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

 

দুপুর ২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং কয়েকটি গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

 

তবে ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, তারা শুধু নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

 

ঘটনার বিষয়ে বাগাতীপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য যুক্ত হলে তা পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশ করা হবে।

 

এদিকে একই ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগকে কেন্দ্র করে নাটোরের লালপুরেও উপজেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় স্থানীয় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

 

পরপর দুই উপজেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা আইনগতভাবে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, লাঞ্ছিত করা কিংবা সম্প্রচার বন্ধের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ—দুই বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট