নাটোর প্রতিনিধি:
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর নিয়োগকে কেন্দ্র করে নাটোরের বাগাতীপাড়া ও লালপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাগাতীপাড়ায় নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত, হেনস্তা এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় সংবাদ ধারণ ও সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের হুমকির অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে লালপুরেও একই নিয়োগসংক্রান্ত বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে স্থানীয় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তারা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, জনগণের সামনে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অথচ সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
নাটোরের সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেছেন, নিয়োগ নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগতভাবে তা উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা, বাধা দেওয়া, হামলা করা কিংবা সম্প্রচার বন্ধের হুমকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে আঘাত করা নয়—এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।
সিনিয়র সাংবাদিকদের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাগাতীপাড়া ও লালপুরে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে নাটোরের সাংবাদিক সমাজ আর নীরব থাকবে না।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, লাঞ্ছনা কিংবা হামলার ঘটনায় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে ধর্মঘটসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কোনো চাপ, ভয়ভীতি বা হুমকির কাছে সাংবাদিক সমাজ মাথা নত করবে না—এমন কঠোর বার্তাও দিয়েছেন তারা।