পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের সার নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সার ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তারা। তবে কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি বরাদ্দের সার দোকানে আসার পরপরই বানেশ্বর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। ফলে সার বিতরণে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তাঁরা।
বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটি এলাকার কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘আমাদের এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহেদা খাতুন নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনে আসেন। কার কতটুকু সার প্রয়োজন, সেটির তালিকা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়।’
দিঘলকান্দি এলাকার কৃষক মাহি বলেন, ‘আমাদের এলাকার জমি উঁচু হওয়ায় সবজি, কলা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল বেশি হয়। এসব ফসলে টিএসপি সারের চাহিদা বেশি। আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়ম মেনে মাসিক বরাদ্দের সার পেয়ে থাকি।’
শাহবাজপুর এলাকার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা মাসে একবার সার পাই। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের সার বিক্রি বন্ধ হওয়ায় আশা করছি, এখন সঠিক দামে সার পাওয়া যাবে।’
সার ডিলার ওসমান আলী বলেন, ‘আমরা মাসিক যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পাই, তা কৃষকদের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খুচরা ব্যবসায়ীদের এবং ৬০ শতাংশ কৃষকদের দেওয়ার কথা। সার আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জানাই। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’
বানেশ্বর ইউনিয়নের তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণ করেই সার বিতরণ করা হচ্ছে। ডিলারদের কাছ থেকে সার আসার তথ্য পাওয়ার পর তাঁরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
তাঁরা আরও বলেন, পুকুরে টিএসপি সারের ব্যবহার কমানো গেলে কৃষি খাতে সারের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলে সার সংগ্রহ নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তিও কমবে। #