শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

গুরুদাসপুরে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৯
অনলাইন ডেস্ক / ২৭ বার
আপডেট টাইমঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

গুরদাসপুর নাটোর প্রতিনিধি:

 

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ এবং হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে গুরুদাসপুর থানার শ্যামপুর গ্রামের দুই শিশু পাশের নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার কনস্টেবল আব্দুর রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহত শিশু লাম (৯), বাবা বাবলু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পুলিশ বিধি অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর অপর শিশু ফারহান (৮)-এর মরদেহের সুরতহাল করতে তার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে পুলিশ জানতে পারে, জানাজার জন্য মরদেহটি চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে এসআই আবুল বাশার ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ফারহানের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে দুই শিশুর জানাজা সম্পন্ন হয়।

পুলিশের অভিযোগ, জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ তাদের অভিভাবকদের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে থানায় সংবাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আব্দুর রাকিব চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কয়েকজন তাদের অবরুদ্ধ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় পরিবারের লোকজন দুই শিশুর মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেন।

পুলিশের দাবি, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে ওই দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত লোকজন বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে এসআই আবুল বাশারের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন। পরে হামলা থেকে বাঁচতে দুই পুলিশ সদস্য দৌড়ে চন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলে সেখানেও তাদের ঘিরে রাখার অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। আহত এসআই আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ জন এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৭, তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৯, ১৮৬, ৩৪২, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার তদন্ত ও অভিযানের অংশ হিসেবে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় গুরুদাসপুর থানা পুলিশ ২৯ আগস্ট রাতে চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে সবুজ প্রাং (২৯), মৃত নাছের আলী প্রাংয়ের ছেলে জাহের আলী প্রাং (৪৫) ও হাসান আলী প্রাং (৫৭); শ্যামপুর স্কুলপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে রবিউল করিম (৪০); শ্যামপুর এলাকার শামীম রেজার ছেলে আশিক আহম্মেদ (২২), জহুরুল ইসলামের ছেলে নাইম আলী (১৯), আব্দুর রহিমের ছেলে রেজাউল করিম (২৮), আব্দুস সালামের ছেলে আল-আমিন (২৭) এবং কামাল হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম (২১)।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে পুলিশকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কোনো পুলিশ সদস্যের আচরণ বা দায়িত্ব পালনে আপত্তি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট