রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন

তিন বছরেই গায়েব প্রায় ২৫ লাখের বিজ্ঞান ভবন।গুরুদাসপুরে টেন্ডার ছাড়াই স্কুল ভবন-টিনশেড বিক্রির অভিযোগ।
অনলাইন ডেস্ক / ১৩ বার
আপডেট টাইমঃ রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

 

আশরাফুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুরা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত বিজ্ঞান ভবন ও কয়েকটি টিনশেড ঘর টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা খালি করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই এসব স্থাপনা বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি প্রধান শিক্ষকের। তবে ভবনটি নির্মাণে অর্থায়নকারী জাইকা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভবন অপসারণের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা মাত্র তিন বছরের মধ্যে ভেঙে ফেলা ও বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে বিজ্ঞান ভবন ও টিনশেড ঘরগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। ভবনগুলোর জায়গা মাটির নিচ পর্যন্ত খালি করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত বিজ্ঞান ভবনটি ভেঙে বিক্রি করায় সরকারি অর্থের বড় ধরনের অপচয় হয়েছে। ভবনটি নির্মাণে জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ভবন ও টিনশেড ঘর ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দে বিজ্ঞান ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে তা শেষ হয়। পরে স্থানীয় কমিটি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবন ও টিনশেড ঘর ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। জায়গা খালি না করলে নতুন একাডেমিক ভবনের অনুমোদন পাওয়া যেত না। স্কুলের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তবে জাইকার কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “বিজ্ঞান ভবনটি ২০২৩ সালে মাত্র নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ভবনটি বিক্রি বা অপসারণের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তারও বলেন, “ভবনটি অপসারণের বিষয়ে কিছুই জানি না।” মাত্রই ইউএনও মহোদয় ডেকে স্কুলটির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর জবাব চেয়ে চিঠি করেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানাতে পারবো।

গুরুদাসপুর শিক্ষা উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন বলেন, “টেন্ডারের পর আমাদের জায়গাটি খালি দেখিয়েছে। তার আগে সেখানে কোনো ভবন বা স্থাপনা ছিল কি না, তা জানা নেই।” তিনি জানান, চারতলা ফাউন্ডেশনের একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে পুরোনো ভবন অপসারণের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটি না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচে উন্মুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে আগের বিজ্ঞান ভবন সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পূর্বের ভবনের ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। দুই-এক দিনের মধ্যে এলাকায় এসে বিষয়টি দেখব।”

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “ভবনটি অপসারণের বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ইতিমধ্যেই ঐ বিদ্যালয়ের ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি ভবন মাত্র তিন বছরের মধ্যে কার অনুমোদনে ভেঙে ফেলা হলো, কী প্রক্রিয়ায় তা বিক্রি করা হলো এবং বিক্রির অর্থই বা কোথায় জমা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট