মোঃ রাজিব হোসেন
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া রসুলপুর এলাকায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) ভবানীপুর রসুলপুর পাড়ার মৃত মনির হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল মালেকের (৩০) কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকার খবর পেয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। পরে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি দেশীয় রামদা ও লাঠি উদ্ধার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল মালেক জানান, তারা চার ভাই। তাদের নানির বাড়ি যশোরে। তিন ভাই ভবানীপুরের দিয়ারপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। জমিজমা নিয়ে এক ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ থাকায় তিনি দেশীয় অস্ত্রটি রেখেছিলেন বলে দাবি করেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন জানান, সকালে মালেক নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে চাচার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কথা জানিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি একটি দেশীয় অস্ত্র দেখতে পান। সেটির ছবি তুলতে গেলে সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মকবুল হোসেনের ভাগিনা মুকুল হাজী নামে এক ব্যক্তি তাকে বাধা দেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে তিনি ছবি তুলে ভাঙ্গুড়া থানার ওসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্রগুলো জব্দ করে নিয়ে যায়।
কামাল হোসেন আরও বলেন, সম্প্রতি ভবানীপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্রের সঙ্গে ওই কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়েও তিনি জানতে চান। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল বারী, উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল কালাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তিতুমীর জিহাদিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী জানান, ভবানীপুর গ্রামে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। তাদের কেউ কেউ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে এসব বক্তব্য তাদের দাবি ও ধারণা; এর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাকিউল আজম জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে একটি দেশীয় রামদা ও লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এবং কার উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল, তা তদন্ত করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মালিকানা, রাখার কারণ এবং ঘটনার পেছনের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।