নেত্রকোনা প্রতিনিধি
জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ তুলে ধরার ক্ষেত্রে দৈনিক ঢাকা পত্র পএিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছেন বারহাট্টার ভুক্তভোগী পরিবার। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক ঢাকা পত্র পত্রিকায় বারহাট্টায় গর্ভবতী গাভী চুরির ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া গাভীটি উদ্ধার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার (৩৫) তার অসুস্থ স্ত্রী মোছা. হাফসা আক্তারকে নিয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালে যান। এ সময় বাড়ির পেছনে বাঁধা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গর্ভবতী লাল রঙের গাভী।
হাসপাতাল থেকে ফিরে গাভীটি না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। পরে বিষয়টি ফকিরের বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে। তাদের অভিযোগ, ফুটেজে চুরি যাওয়া গাভীটি বারহাট্টার সারাকোনা গ্রামের রায়হান মিয়ার বাড়িতে নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, গাভী চুরির ঘটনায় সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রায়হান মিয়া ও কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও নবী হোসেন গং সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, চুরি যাওয়া গাভীটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করার কথা বলে দেলোয়ার হোসেন ও নবী হোসেন গং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গাভী উদ্ধারের কথা বলেই ওই টাকা নেওয়া হয়।
দৈনিক ঢাকা পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে ফকিরের বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিঃ) মো. শাহজাহান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া গর্ভবতী গাভীটি উদ্ধার করে।
তবে গাভী উদ্ধার হলেও এ ঘটনায় রায়হান মিয়াসহ অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়হান মিয়া স্কুলছাত্র সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গাভী চুরির অভিযোগ এবং গাভী উদ্ধারের নামে ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।